বন্দরে টোটাল ফ্যাশনে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ১০

 



বন্দরে টোটাল ফ্যাশনে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ১০


নিউজ ডেস্ক ঃ বন্দর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নের কামতাল এলাকায় অবস্থিত টোটাল ফ্যাশন লিঃ নামে একটি শতভাগ রফতানিমুখী গার্মেন্টসে ১২জন শ্রমিককে চাকুরিচ্যুত করার ইস্যুতে প্রতিষ্ঠানটির অফিস স্টাফ ও সিকিউরিটি গার্ডদের সাথে শ্রমিকদের সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এতে করে ৫জন অফিস স্টাফ ও সিকিউরিটি গার্ড এবং ৫জন শ্রমিক আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসার জন্য তাদেরকে মদনপুরস্থ দি বারাকাহ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। (২০ মে) বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় ঈদের ছুটির পর পুনরায় ফ্যাক্টরী চালু করলে এ ঘটনা ঘটে।

শ্রমিকদের দেয়া তথ্যমতে জানা যায়, ঈদের পূর্বে শেষ কর্মদিবসে সকল শ্রমিকদের বেতন বোনাস দিয়ে উক্ত ১২জন শ্রমিককে বসিয়ে রাখা হয় এবং মালিকপক্ষ তাদেরকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে অন্যায়ভাবে চাকুরিচ্যুত করে ফ্যাক্টরী থেকে বের করে দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে তাদেরকে চাকুরিতে পুনঃবহালের জন্য শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার সকালে ফ্যাক্টরীর সম্মুখে মানববন্ধন করার প্রস্তুতি নেয়। বিষয়টি আন্দাজ করতে পেরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আগ থেকেই পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয় এবং নিজস্ব সিকিউরিটি গার্ড এর সংখ্যা বাড়িয়ে উপস্থিত রাখা হয়। সকাল ৮টায় একজন নারী শ্রমিক ফ্যাক্টরীতে ঢোকার সময় তার সাথে সিকিউরিটি গার্ডদের কথা কাটাকাটি হয় এবং নারী শ্রমিককে পিটিয়ে আহত করে। নারী শ্রমিকের উপর সিকিউরিটি গার্ড কর্তৃক হামলার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত শ্রমিকরা প্রবেশ গেইটে জড়ো হয় এবং গার্ডদের সাথে শ্রমিকদের কথা কাটাকাটি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। অফিস স্টাফরা গার্ডদের পক্ষ নিয়ে শ্রমিকদের উপর চড়াও হলে উত্তেজিত শ্রমিকরা সিসি ক্যামেরা ও অফিস কক্ষের কয়েকটি জানালার কাচ ভাংচুর করে। এতে সমগ্র গার্মেন্টসে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ৫জন অফিস স্টাফ ও সিকিউরিটি গার্ড এবং ৫জন শ্রমিক আহত হলে তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। এদিকে উত্তেজিত শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে ১২জন শ্রমিককে চাকুরিতে পুনঃবহাল ও অতিরিক্ত ১৮ দফা দাবী নিয়ে কারখানার ভিতরে আন্দোলন করতে থাকে।

পরে প্রতিষ্ঠানটির মালিক পক্ষের সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-খ) শেখ বিল্লাল হোসেন, বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার, বন্দর থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা, ধামগড় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, ধামগড় ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি কামাল হোসেন কয়েকবার বৈঠক করে এ সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চালান। আগামী রোববার সকাল ১০টায় কারখানায় এসে মালিকপক্ষের সাথে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা একেএম সেলিম ওসমান শ্রমিকদের সকল দাবী দাওয়া নিয়ে কথা বলবেন এবং সে পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয় ও কোন শ্রমিককে পুলিশি হয়রানী করা হবেনা এমন আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা সকাল ১১টার পর কারখানা ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে টোটাল ফ্যাশন লিমিটেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসিব উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা কোনভাবেই শ্রমিক ছাটাইয়ের পক্ষে না। শ্রমিকদের জন্যই এ প্রতিষ্ঠান। উক্ত ১২জন শ্রমিক ঠিকভাবে প্রতিষ্ঠানে আসতো না ও কাজ করতো না। তাদের কারণে কারখানার কর্মপরিবেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাদেরকে অনেক বার ডেকে বুঝানো হয়ছে। কিন্তু তারা সংশোধন হয়নি। কাজের পরিবেশের কথা চিন্তা করে শ্রম আইনের ২৬ ধারা মোতাবেক তাদের সকল বেতন ও ভাতা পরিশোধপূর্বক তাদেরকে ছাটাই করা হয়েছে। ছাটাইয়ের সময়ও তারা একবার বলেনি যে তারা সংশোধন হবে এবং তারা এখানে চাকুরি করতে চায়। কোন তৃতীয় পক্ষের ইন্ধনে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে আমরা মনে করি। একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে’।

এসময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় নবীর হোসেন মেম্বার, আমিনুল ইসলাম মেম্বার, ধামগড় ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি মোশারফ হোসাইন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক গাজী খোকন ও সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির জিলানী, মদনপুর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, যুগ্ম সম্পাদক আঃ জাব্বার সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Post a Comment

[blogger]

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget